Channel786 is a Community News Network

রিক্রুটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের প্রাধান্য দিয়ে থাকি: হোসাইন শামীম

সাইদ রহমান

প্রকাশিত: ২০:২৩, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

রিক্রুটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের প্রাধান্য দিয়ে থাকি: হোসাইন শামীম

চ্যানেল ৭৮৬ এর অনুষ্ঠানমালায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘এটর্নি রাজু মহাজন প্রেজেন্টস এনআরবি আইকন’। প্রতি সপ্তাহে একজন আইকনিক ব্যক্তিত্বকে হাজির করা হয় এই অনুষ্ঠানে। তিনি তার জীবন এবং কর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় থাকেন জাহান অরন্য। এবারের পর্বের অতিথি হলিডে ইন সুইটস-এর মোহাম্মদ হোসাইন শামীম

কোভিড পরিস্থিতিতে এড়িয়ে কতটা ভালো আছেন?
সত্যি কথা বলতে কি, বেশ কঠিন একটা সময় গেল। এখন তুলনামূলকভাবে ভালো আছি। মাসদুয়েক আগেও ভয়াবহ পরিস্থিতি গেছে। আমার পরিবারের বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে, তারা স্ট্রাগল করেছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

আপনার স্কুল-কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা সম্পর্কে জানতে চাই।
আমার স্কুল ও কলেজ একটাই- ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা করি এখানে, মানে আমেরিকাতে এসে। আগে থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল যুক্তরাষ্ট্র অথবা যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা। দুই জায়গাতেই হয়ে যায়। ফ্যামিলির সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নিয়েছি। 

বিজনেসে জড়ালেন কখন?
আমেরিকায় এসে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করেছি। তাতে আমার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে। এরপর গ্রাজুয়েশন শেষে সাড়ে তিন বছর চাকরি করেছিলাম। এসব অভিজ্ঞতাই আমাকে বিজনেসে আসতে সাহায্য করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার, দুটো মিলিয়েই আজকের আমি। এর কোনো একটাকে বাদ দেওয়া যাবে না।

হোটেল বিজনেসে কীভাবে আসলেন?
আমার বিজনেসের শুরুটা হোটেল দিয়ে ছিল না। শুরু করেছিলাম গ্যাস স্টেশন দিয়ে। সেখানে সফলতা পাই, ধীরে ধীরে ৯টি গ্যাস স্টেশন গড়ে তুলতে সক্ষম হই। বিজনেসের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটাও অনেক দারুণ হয়। তো, তখন হোটেল বিজনেসের কথা চিন্তা করলাম। আমাদের হাতে একটা চমৎকার জায়গা ছিল, সেখানেই শুরু করলাম হোটেল। 

একজন বাংলাদেশি কীভাবে আমেরিকার মতো জায়গায় বিজনেস শুরু করতে পারে?
আমেরিকার নাগরিক হলে তো খুবই ভালো। তবে কারও যদি শুধু গ্রিন কার্ড থাকে, তাহলে সেটাই বিজনেস শুরু করার জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে প্রথম স্টেপ হলো, মোটামুটি অংকের একটা ডাউন পেমেন্ট লাগবে। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের ঋণ নিয়ে গ্রাহকের জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে। সেখানে যোগাযোগ করে তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলোর ব্যাপারে স্টাডি করতে হবে। বিজনেসের ধরন অনুযায়ী ব্যাংক থেকে কিছু ডকুমেন্ট চাইবে, সেগুলো যথাযথভাবে জমা দিতে পারলে ঋণ পাওয়া কঠিন কিছু না।

বিজনেস ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে যদি বলতেন...
হ্যাঁ, এই ক্যাটাগরির একটা ভিসা আছে। সরাসরি এই ভিসাতে বাংলাদেশ থেকে আসলে এখানে এসে সহজেই ব্যবসা শুরু করা যায়। তবে এক্ষেত্রে বেশ ভালো অংকের একটা টাকার মালিকানা দেখাতে হয়। এরপর বিজনেস ক্যাটাগরির ভিসায় ব্যবসা শুরু করার পর গ্রিন কার্ড দ্রæত ম্যানেজ করা সম্ভব হয়।

আপনাদের হোটেলের নাম এবং কীভাবে শুরু করেছিলেন?
আমাদের হোটেলের নাম হলিডে ইন সুইটস। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপের কথা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন। এটা সেই গ্রুপের আন্ডারে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। হোটেলের জন্য বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোম্পানির নাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল গ্রুপ তথা আইএইচজি। আমার যখন হোটেল করবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম তখন এই গ্রুপের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়। তারাই স্টেপ বাই স্টেপ আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়। সেখানেই হোটেল গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য আপনাদের প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ কতটা?
বলা বাহুল্য, আমরা তো মনেপ্রাণে চাই বাংলাদেশিরা আমাদের এখানে কাজ করুক। কিন্তু আনফরচুনেটলি বর্তমানে ৩ জন বাংলাদেশি এমপ্লয়ি আছেন আমাদের এখানে। আমরা এনকারেজ করে যাচ্ছি, বিভিন্নভাবে মেসেজটা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি আমাদের এখানে কাজ করার ব্যাপারে। স্যালারি ভালো এবং বিভিন্ন ধরনের বোনাসও আছে।

আপনাদের এখানে জব পাওয়ার প্রক্রিয়াটা কি?
আমরা মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকি। এছাড়া আমাদের ওয়েবসাইট আছে। সেখানে যোগাযোগের জন্য নম্বর দেওয়া আছে। চাইলে যে কেউ আমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও যোগাযোগ করতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ