Channel786 is a Community News Network

লক্ষ্যকে ছুঁতে পাগলাটে না হলে সফল হওয়া যায় না: বারি কাহার

সাইদ রহমান

প্রকাশিত: ২০:৪০, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২

আপডেট: ২১:০২, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২

লক্ষ্যকে ছুঁতে পাগলাটে না হলে সফল হওয়া যায় না: বারি কাহার

চ্যানেল ৭৮৬ এর অনুষ্ঠানমালায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘এটর্নি রাজু মহাজন প্রেজেন্টস এনআরবি আইকন’। প্রতি সপ্তাহে একজন আইকনিক ব্যক্তিত্বকে হাজির করা হয় এই অনুষ্ঠানে। তিনি তার জীবন এবং কর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় থাকেন জাহান অরন্য। এবারের পর্বের অতিথি ই-২ডি ওয়ার্ল্ড স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বারি কাহার

আপনার আমেরিকায় আসার গল্পটা জানতে চাই
আমি যখন নিউইয়র্কে পা দিয়েছি, তখন সেটাই ছিল আমার প্রথম বিদেশে আসা। অনেক ছোটবেলাতেই আমি জানতাম, বড় হয়ে একদিন বিদেশে যাবো। মা-ও বলতেন, তুই ইন্টারমিডিয়েট পাস করলে তোকে আমেরিকায় পাঠাবো। আমি যখন ক্লাস থ্রিতে, তখন বিদেশে আসার জন্য আমি টাকা জোগাড় করতে শুরু করি। ৬ মাসে ১৭ টাকা ৭৫ পয়সা জোগাড় করেছিলাম। তখন তো বুঝতাম না যে, বিদেশে যাওয়ার জন্য এই টাকা কিছুই না।

এরপর কী করলেন?
ছাত্রজীবনে আমি প্রচুর টিউশনি করিয়েছি। ইন্টারমিডিয়েট থাকা অবস্থায় ওই ক্লাসেরই শিক্ষার্থীদেরকে পড়িয়েছি। ছোটবেলা থেকেই কারও কাছে হাত পেতে টাকা নেওয়াটা আমার অভ্যাসে ছিল না। যাই হোক, প্লেনের টাকাটা বাবা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। সঙ্গে দিয়েছিলেন প্রথম সেমিস্টারের টিউশন ফি। সেটা দিয়েই আমি আমেরিকায় পা রাখি।

প্রথমে কি নিউইয়র্কে আসলেন?
হ্যাঁ, আমি প্রথমে নিউইয়র্কে পা দিয়েছি। অনেকেই আমাকে নানা রকম বুদ্ধি দিয়েছে- পলিটিক্যাল এসাইলাম নাও। এটা কর, সেটা কর। সেই সময় নির্মল পাল নামে বাংলাদেশি আমেরিকান ভদ্রলোক আমাকে একটা কথা বলেছিলেন- অলওয়েজ মেনটেইন ইউর স্ট্যাটাস। তার সেই কথাটা আমার মনে ধরেছে। আমি সমসময় স্টুডেন্টই থেকে গেছি। 

তখন আপনার বয়স কত?
১৯ বছর। সেই বয়সেই আমাকে এসব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর মধ্যেই বাবা-মা ও ছোট ভাই এসে হাজির। আমি চিন্তাও করতে পারি নাই, ওই বয়সে এতটা চাপ নিতে পারবো। আমি ভাবছিলাম, বাবা-মা হয়তো কয়েকদিন থেকে চলে যাবে। কিন্তু মা দেখলাম যেতে চাচ্ছে না। এক পর্যায়ে মায়ের কাছ থেকে লুকিয়ে একটা গাড়ি কিনি ৮০০ ডলার খরচ করে। আমাকে পড়শোনার জন্য মিনেসোটায় যেতে হবে। কী আর করা, বাবা-মাকে নিয়েই এই গাড়ি ড্রাইভ করে মিনেসোটায় যাই। তখন ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। এখন ভাবলেও অবাক লাগে, সেই সময় আমি আমার পরিবারকে নিয়ে ঘুরছি। এক সময় আমরা মিনেসোটায় সেটেল হই।

আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে জানতে চাই।
পড়াশোনা শেষে প্রথমে মাইক্রোসফটের কনসালটেন্ট হিসেবে চাকরি পাই। বিল গেটসের সঙ্গে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি। উনি যখন কোনো ডেমো দিতো, আমরা সেসব নিয়ে কাজ করতাম। বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগ দিয়েছি। সময়গুলো ভালোই কাটছিল। তারপর এক সময় বিজনেসের চিন্তা করি। কিন্তু বাবা আমাকে বললো, তোর রক্তের মধ্যেই ব্যবসা নাই।

এডুকেশন নিয়ে কখন কাজ শুরু করলেন?
২০০৬ সালে ইন্ডিয়ান একটা কোম্পানির সঙ্গে কাজ করতে যাই। তারা এডুকেশন নিয়ে কাজ করে। কিন্তু কোম্পানিটি আমাকে রিজেক্ট করে। মজার ব্যাপার হলো- দুই বছর পর তারাই আমাকে কল দেয়, জানতে চায়, আমি কাজ করবো কি-না। তখন আমি ইকুয়েল পার্টনারশিপে তাদের সাথে জয়েন করি। সেখান থেকে আমাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। 

আপনার ই-২ডি ওয়ার্ল্ড স্কুল সম্পর্কে কিছু বলুন
আমেরিকায় গ্রাজুয়েশন করতে এলে কী পরিমাণ স্ট্র্যাগল করতে হয়, সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কারও পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যেহেতু আপনি এ দেশের সিটিজেন না, তাই উপার্জনের সুযোগও খুবই কম। এই বিষয়টা আমাকে নাড়া দিয়েছে। আমি এমন একটু কিছু করতে চেয়েছি, যেখানে সব দেশের শিক্ষার্থীকে সমান করে দেখা হবে এবং অর্থ নিয়ে তাদেরকে কোনো ধরনের সংকটে পড়তে হবে না। সেই আইডিয়া থেকেই জন্ম নিল ই-২ডি এডুকেশন সার্ভিসেস।

এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে কীভাবে এগিয়ে যেতে চান?
আমরা কোনো শর্টকাট ওয়েতে বিশ্বাস করি না। সেদিকে যেতেও চাই না। আমরা প্রথমে দুজনকে ডক্টরেট ডিগ্রি দিতে চাই। সেই দুজন আমার মিশনকে ছড়িয়ে দেবে। এরপর আরও দুজন ডক্টরেট নেবে, তারা আবার একই কাজ করবে। তারপর সেটা জ্যামিতিক হারে বাড়বে। দুই, চার, আট, ষোল-এভাবে। এটাকে বলে পাওয়ার অব টু। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।

সফলতার মূলমন্ত্র বা চাবিকাঠি কি? 
আমার কাছে মনে হয়, গ্রেট মানুষরা কিছুটা অটিস্টিক হয়। স্টিফেন হকিং তো অটিস্টিক ছিলেন। বলা হয়ে থাকে, আইনস্টাইনও কিছুটা অটিস্টিক, কারণ তার সাথে কোনো মানুষের খুব একটা বনিবনা হতো না। আমি আসলে অটিস্টিক শব্দটা নেতিবাচক অর্থে বলিনি। আমি বলতে চাচ্ছি, তারা একরোখা হয়। কখনো কোনো অবস্থানে ভেঙে পড়ে না, থেমে যায় না। তাই আমি সফলতার অনেকগুলো মূলমন্ত্র বলতে চাই না। আমার কাছে মনে হয়, লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে পাগলাটে, অটিস্টিক হতে হবে।

আপনাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে বিস্তারিত কীভাবে জানা যাবে?
প্রতি শনিবার আমরা একটা আড্ডা দিয়ে থাকি। ই-২ডি ওয়ার্ল্ড স্কুলের ওয়েবসাইটে আসুন এবং আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হয় এই আড্ডা। আমরা কাউকে কিছু শিখাই না, প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকে তথ্য বিনিময় করি। সেখানে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। আমাদের সাথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। চলে আসুন  ই-২ডি ডটকম-এই ওয়েবসাইটে। সবাইকে আগাম শুভেচ্ছা। 

চ্যানেল ৭৮৬ এর দর্শকদের জন্য কিছু বলুন...
আমরা আসলে কোনো দেশের না, আমার পৃথিবীর নাগরিক। মনটাকে বড় করুন, বড় কিছু ভাবুন। পৃথিবীর আপনারই। চ্যানেল ৭৮৬-এর দর্শকসহ আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ