Channel 786 | চ্যানেল ৭৮৬ | Community Bangla Newspaper

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন ও একজন আতাউর রহমান মিয়াজী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:২৭, ৪ জুলাই ২০২৩

আপডেট: ১২:২৮, ৪ জুলাই ২০২৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন ও একজন আতাউর রহমান মিয়াজী

১০২ বছর পেরিয়ে ১০৩ বছরে পা রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে অনুভূতি এবং নিজের ছোটবেলা থেকে শুরু করে ঢাবির অধ্যাপক হওয়ার জার্নি সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রফেসর ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজী। নিচে সেটা তুলে দেওয়া হলো-

স্যার নবাব সলিমুল্লাহ ও নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত সকল মহৎপ্রাণ ব্যক্তিকে বিনম্র শ্রদ্ধা, ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই! এদেশের আপামর জনসাধারণ (যাঁরা সাংবিধানিকভাবে এ দেশের মালিক ও যাঁদের ট্যাক্স- এর টাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজকের শতবর্ষের বিশাল মহীরূহ) তাঁদের প্রতি রইলো অকৃত্রিম  শ্রদ্ধা, দরদ ও ভালোবাসা! সাথে সাথে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছি! 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর যারা এটাকে ‘মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়’ বলেছিলো, তাদেরকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিসহ অন্যান্য পুরস্কারে পুরস্কৃত করতে ভুল করেনি! অবশ্য জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত কোনও স্থাপনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- এ দৃশ্যমান হচ্ছে না! এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেয়া সময়ের অপরিহার্য দাবী বলে মনে করি! 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রাণপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়! এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ছাত্র ও শিক্ষক হিসেবে আমার জীবনের পাক্কা চল্লিশটি বছর মিলে মিশে একাকার হয়ে আছে! এই চল্লিশটা বছর এই অধমের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়! আমার পার্থিব জীবনের যা কিছু প্রাপ্তি ও সফলতা, তা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই! অর্থাৎ আমার পার্থিব জীবনের প্রাপ্তি ও সফলতার কেন্দ্রবিন্দু এই প্রাণপ্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!

ছোট বেলায় স্কুলের পরীক্ষার খাতায় যখন রচনা লিখতাম- ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’; তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিনতাম না! কিন্তু নিজের অজান্তেই সখ করে লিখতাম- আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- এর অধ্যাপক হতে চাই!

ইংরেজি রচনা- my aim in life লিখতে গিয়ে লিখতাম- I want to be the Professor of the university of Dhaka. আমার নানা (প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন) তখন বলতেন- তোমরা দেখো, আমার নাতি ইনশা আল্লাহ্ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- এর প্রফেসর হবে! আল্লাহ তাআলা শেষ পর্যন্ত নানার দুআ কবুল করে নিলেন! তা না হলে আমার তো আসলে ‘এফআরসিএস‘ ডাক্তার হওয়ার কথা! কারণ এসএসসি ও এইচএসসি- তে আমার সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ঈর্ষনীয় রেজাল্ট হওয়ার কারণে ঢাকাতে ‘এম বি বি এস‘ ভর্তি হয়েছিলাম! কিছু দিন পড়াশুনাও করেছিলাম! 

এ দিকে আবার আব্বা লক্ষ লক্ষ বার দুআ করেছেন- আমার বড় ছেলেকে আল্লাহ্ সবচেয়ে বড় আলেম বানাও! আমি দেখে যেতে চাই! আল্লাহ তাআলা আব্বার দুআও কবুল করলেন! ফলে রওযা মোবারক- এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামিক লাইনেও পড়াশুনা করেছি!  আলহামদু লিল্লাহ ,তাফসীর, হাদীস, ফিকাহ ইত্যাদিতেও খানিকটা পারদর্শিতা অর্জন করেছি! 

নানার দুআর ফলশ্রুতিতে, এম বি বি এস কমপ্লিট না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় " ঘ- ইউনিটের মাধ্যমে" ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অনার্স ভর্তি হলাম! তদানীন্তন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব হোসেন মুহাম্মাদ এরশাদের পুরো শাসন আমলটাই ছিলো ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়- এ আমার ছাত্র জীবন! 

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে বহু বছরের ব্যবধানে রেকর্ড মার্কস পেয়ে বি এ ( অনার্স) এবং এম এ ফাইনাল পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করার তৌফিক মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর এ নগণ্য গোলামকে দিলেন! 

ছোট বেলায় আব্বার কাছে শুনেছি- আব্বার দাদা হুজুর আল্লামা ইয়াকুব আলী সাহেব( র.) তদানিন্তন বিশ্বের অন্যতম সেরা মাদ্রাসা দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে গোল্ড মেডেল পেয়ে কৃতিত্বের সাথে ছাত্র জীবন শেষ করেন এবং উক্ত মাদ্রাসায় ‘ফার্স্ট মুহাদ্দিস‘ হিসেবে যোগদান করেন! তিনি দেশে ফেরার পর শত শত মানুষ শত মাইল দূর থেকে ঘোড়ায় চড়ে এসে তাঁকে দেখে যেতেন এবং অভিনন্দন জানতেন! আমার আব্বার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিলো! 

আমি লোভ সামলাতে না পেরে আব্বাকে বললাম- আমি শিক্ষা জীবনে এমন কৃতিত্ব অর্জন করলে আমাকেও কী মানুষ দেখতে ও দুআ করতে আসবেন? আব্বা তাৎক্ষণিকভাবে বললেন- তোমাকে হাজার মাইল দূর থেকে বিমানে চড়ে এসে দুআ ও অভিনন্দন জানাবে ইনশা আল্লাহ্! 

মহান আল্লাহ তায়ালা আব্বার এই দুআও কবুল করলেন! আমার বি এ( অনার্স) এবং এম এ পরীক্ষার ঈর্ষনীয় রেজাল্ট- এর পর মাহাথির মোহাম্মদের দেশ মালয়েশিয়া থেকে ‘বিশ্ব মুসলিম সেবা সংঘ’ এর আয়োজনে ও আমন্ত্রণে ড. ইসলামুল হক্ক (ড. শিব শক্তি স্বরূপজি উদাসেন মহাচাঁদ/ যিনি তদানিন্তন ভারতের ৭২ কোটি হিন্দুর ভগবান ছিলেন এবং বিশেষ কারণে ইসলাম গ্রহণ করলেন) ঢাকা এসে জিয়াউর রহমান শিশু মিলনায়তনে ( হাই কোর্ট ও সুপ্রীম কোর্ট- এর পার্শ্বে) আমার হাতে ‘গোল্ড কাপ‘ তুলে দিলেন, আমাকে দুআ ও অভিনন্দিত করলেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণের বাস্তব প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন! 

এর পরপর লেকচারার হিসেবে যোগদান করে ক্রমান্নয়ে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে প্রায় তেত্রিশ বছর যাবৎ দেশ-বিদেশে অনেক শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক একাডেমিক কার্যক্রম, সেমিনার, সিম্পজিয়াম, কনফারেন্স, ইসলামিক প্রোগ্রাম, অসংখ্য স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে হাজারো ইসলামিক প্রোগ্রাম ( মৌলিক ও শিক্ষা বিষয়ক) ইত্যাদিতে অংশ গ্রহণ করার তৌফিক মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই নগণ্য গোলামকে দিলেন!

মাঝখানে নিজের ‘পি-এইচ. ডি.‘ ডিগ্রী সুসম্পন্ন হলো! আর বহু এম ফিল ও পি-এইচ. ডি. গবেষণা আমার তত্ত্বাবধানে সুসম্পন্ন হয়েছে ও চলমান আছে! উক্ত সব প্রাপ্তি ,তৃপ্তি ও সফলতা অর্জন প্রাণপ্রিয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-কে কেন্দ্র করেই! আরও কত কী...!!! 

বর্তমানে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিয়েনে (০৫ বছরের ছুটিতে) আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি- তে চীফ অ্যাডভাইজার হিসেবে ভাইস চ্যান্সেলর- এর দায়িত্ব পালন করছি! মহান আল্লাহ তায়ালা বাঁচিয়ে রাখলে এবং সুস্থ থাকলে ইনশা আল্লাহ্ নির্ধারিত ছুটি শেষে আবারো প্রাণপ্রিয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়- এ ফিরে আসবো! সকলের জন্য দুআ করি এবং দুআ চাই- মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে ও আমাদের সকলকে পবিত্র নেক হায়াত দারাজ করেন! আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন! 

জয়তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়! জয়তু বাংলাদেশ!! 
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাসহ- 
প্রফেসর ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজী
ভাইস চ্যান্সেলর, আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি
                    এবং
প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ