Channel786 is a Community News Network

বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রি বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইমাম বেগ

নিউইয়র্কে হালাল ফুড সহজলভ্য

জোবায়ের আল মাহমুদ

প্রকাশিত: ২০:২২, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ২২:২৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিউইয়র্কে হালাল ফুড সহজলভ্য

সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ইমাম আবু জাফর বেগ

একজন মুসলিমের ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল খাবার ও হালাল উপার্জন। যারা মুসলিম দেশে বসবাস করেন, তাঁদের জন্যে হালাল খাবার সংগ্রহ কিছুটা সহজ হলেও যারা আমেরিকা ও ইউরোপের মত দেশে বসবাস করেন, তাদের জন্য হালাল খাবার পাওয়া কঠিন। কীভাবে আমেরিকায় হালাল খাবার সংগ্রহ করা যায়, কারা হালাল খাবার মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেয় এবং হালাল-হারামের বিভিন্ন জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্ন নিয়ে চ্যানেল ৭৮৬-এর মুখোমুখি হয়েছেন জামাইকা মুসলিম সেন্টারের খতিব ও ইমাম আবু জাফর বেগ। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন চ্যানেল ৭৮৬-এর উপস্থাপক জোবায়ের আল মাহমুদ

প্রথমেই জানতে চাচ্ছি, হালাল এবং হারাম কি? কোরআন-হাদিসে হালাল এবং হারামের বিধান কি?
হালাল এবং হারাম সুস্পষ্ট। কিছু কিছু খাবারের বিষয়ে সন্দেহ দেখা যেতে পারে, এটা হালাল বা হারাম কিনা। সেক্ষেত্রে হাদিসের বর্ণনা, সাহাবিদের জীবনী দেখলে খুব স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় হালাল বা হারাম কিনা। আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য, আমাদের বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর হুকুম মতো চলা। আল্লাহ যেটা হালাল বলেছেন, তা আমরা গ্রহণ করবো। যেটা হারাম বলেছেন, তা আমরা বর্জন করবো। 
আমি আমেরিকায় এসেছি প্রায় পঁচিশ বছর আগে, তখন হালাল চলাটা কিছুটা কষ্টকর ছিল। সব জায়গায় হালাল খাবার বা হালালভাবে জবেহকৃত পশুর গোশত পাওয়া যেত না। এখানে বেশিরভাগ মানুষ শিক্ষিত, তারা খাবারের উপাদান দেখে সাধারণত খাবার কিনে থাকে। আরেকটা বিষয় হলো, তারা খাবারে কি উপাদান ব্যবহার করছে (যেমন ফ্যাট হিসেবে শূকর বা অন্য অন্য কীসের ফ্যাট ব্যবহৃত হচ্ছে) তা প্যাকেটের গায়ে খুব স্পষ্টভাবে উল্লিখিত থাকে। সুতরাং আমেরিকায় কেউ যদি হালাল হারাম বেছে চলতে চায়, তা সেটা খুব কঠিন নয়। 
প্রথম দিকে আমাদের সমস্যা হয়েছিল বিফ ও চিকেনের ক্ষেত্রে। দোকানগুলোতে হালাল জবেহকৃত গোশত পাওয়া যেত না, তার জন্য যেতে হতো অনেক দূরের পোল্ট্রি ফার্মে। এখন অবশ্য বেশিরভাগ দোকানেই পাওয়া যায় হালাল গোশত। এমনকি হালাল খাবারের হোম ডেলিভারিও দেয়া হয়। তাই হালাল-ভাবে চলা খুব সহজ এখন, তবে ইচ্ছা থাকতে হবে অবশ্যই।
 
অনেকে হয়তো কষ্ট করে দূরে গিয়ে হালাল খাবার সংগ্রহ করতে চান না, কাছে যা পান তাই গ্রহণ করেন। এসব ক্ষেত্রে ইসলামের হালাল খাবারের বিধান কি?
হাদিসে এসেছে, হারাম খাদ্য খেয়ে ইবাদত করলে সেটার গ্রহণযোগ্যতা নেই। এমন ব্যক্তির দুয়াও আল্লাহ কবুল করবেন না। হারাম খাদ্যের তৈরি রক্ত-মাংস জাহান্নামে যাবে, এমন কথা সুস্পষ্টভাবেই বলা আছে। যেমন, কেউ যদি ঘুম থেকে উঠে অজু না করেই নামাজ পড়ে ফেলে, তাতে কিন্তু সে নামাজের সওয়াব পাচ্ছে না। উল্টো অজু না করার কারণে সে গুনাহগার হচ্ছে। 
নামাজ, যাকাতের মতো হালাল খাবার খাওয়াও ফরজ। হারাম জিনিস অবশ্যই জাহান্নামে যাবে, আর হালাল জিনিস যাবে জান্নাতে। আল্লাহ আমাদেরকে জান্নাতে রাখার জন্যই তৈরি করেছেন, কারণ আমাদের আদি পিতা আদম-হাওয়া (আ) জান্নাতেই ছিলেন। আল্লাহ জানেন মানুষ ভুল করবে, এটাই মানুষের স্বভাব। 
এদেশে একটু ভালো বাড়িতে থাকলে হলে বেশি টাকা দরকার, এজন্য দরকার বেশি কষ্ট করে বেশি উপার্জন করা। তেমনি হালালভাবে চলতে গেলেও একটু কষ্ট করতেই হবে, এছাড়া কোনো উপায় নেই। হারাম খেয়ে কোনো ইবাদত কবুল হবে না, হারাম শরীর জান্নাতেও যাবে না- এতটাই ভয়াবহ হারামের শাস্তি। জাহান্নামে গিয়ে তখন মানুষের মনে হবে, আমি যদি কষ্ট হলেও একটু হালালভাবে চলতাম! 
এখানে একটি ব্যাপার লক্ষণীয়, রাসুলের (সা.) সময়ে মুনাফিকেরা পর্যন্ত নিজেদেরকে মুসলমান প্রমাণের জন্য মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তো। যদিও তাদের ইমান ছিল না, কিন্তু তারা প্রকাশ করতো ভিন্ন। সুতরাং নিজেকে ইমানদার দাবী করতে চাইলে অবশ্যই হালালভাবে চলতে হবে। হারাম খেয়ে, হারাম চলে আল্লাহর কাছে জান্নাতের আশা করা যাবে না কিছুতেই। হালাল খাওয়া, হালাল-ভাবে চলা আমাদের জন্য ফরজ। এ ছাড়া জান্নাতের কোনো আশা নেই।

 

হালাল এবং হারামের বিষয়টি কি শুধু খাবারের বেলায় প্রযোজ্য নাকি আচার-আচরণ, রিজিক-উপার্জন, এসব ক্ষেত্রেও মেনে চলতে হবে?
খাবারের ওপর তো ইমপ্লিমেন্ট করতেই হবে কিন্তু, হারাম উপার্জনের মাধ্যমে কেনা খাবার কোনোদিন হালাল হয় না। হালাল উপার্জন করে খাবার হালাল করে খেতে হবে। একইভাবে আচার আচরণ শরিয়ত মোতাবেক বজায় রাখতে হবে। স্ত্রীর সাথে হালাল ব্যবহার করতে হবে। সত্য সাক্ষী দিতে হবে। মিথ্যা সাক্ষী দিলে সেটা হবে হারাম। পরিবার কে হালাল উপায়ে চলার উপদেশ দিতে হবে। পোশাকের ক্ষেত্রেও হালাল নিয়ম বজায় রাখতে হবে। 
অনেকেই মনে করেন তারা সৎ, কিন্তু তারা হালাল চলাফেরা করেন না। ইমানের দাবি করেন তিনি, কিন্তু হালাল খান না, শরীয়তের অন্য হুকুম মানেন না। যেমন, আমি একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে উনি ঠিকমতো নামাজ পড়েন কিনা। তিনি উত্তর দিলেন যে মাঝে মাঝে ছুটে যায় কয়েক ওয়াক্ত। তখন আমি বললাম যে আপনি অন্তত যাকাতটা ঠিকমতো দিবেন। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, কত টাকায় কত টাকা যাকাত দিতে হয়। আমি বললাম, জমা করা উপার্জনের ২.৫% যাকাত দিতে হয়। তখন তিনি আবারো বললেন যে উনার ৫ মিলিয়ন ডলার জমা আছে, তাহলে কত দিতে হবে? উত্তরে আমি ওনাকে জানালাম যে সোয়া ১ লক্ষ ডলার যাকাত দিতে হবে। কিন্তু উনি এই পদ্ধতি নিয়ে অমত প্রকাশ করলেন এবং যাকাত দেওয়ার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন। এই টাকা ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিতে চাইলেন। তার যুক্তি ছিল, আমার এত কষ্টের টাকা হারাম কেন হবে, আমি তো অন্যায় করে উপার্জন করিনি। অথচ আসল ব্যাপার হলো, উপার্জনের সমস্ত টাকা যদি আপনি খেয়ে ফেলেন বা ব্যবহার করেন, তার উপর যাকাত নেই। যাকাত শুধু জমিয়ে রাখা অলস সম্পদের উপর। আর এটা মানুষের তৈরি বিধান না, স্বয়ং আল্লাহর দেয়া বিধান। সুতরাং, গরিব কে তাদের হক থেকে এভাবে বঞ্চিত করলে নিজের অর্থ ধ্বংস হওয়া অনিবার্য। 

আপনি দুই যুগ ধরে আমেরিকা আছেন। আপনি যখন এসেছিলেন, তখন হালাল খাবার নিয়ে আপনার কতটুকু কষ্ট করা লাগতো? বর্তমানে আমেরিকায় হালাল খাবার নির্ণয় করার জন্য কোন শরিয়াহভিত্তিক সংগঠন আছে কি? 
প্রথমদিকে কঠিন ছিল অনেক। অনেক দূরে গিয়ে খুঁজতে হতো হালাল খাবার। তবে এখন আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় যেমন মিশিগান, ফ্লোরিডা, ডালাস ইত্যাদি শহরে হালাল গ্রোসারি স্টোর আছে এবং নামাজি রেস্তোরাঁ আছে। হালাল নির্ণয় করার জন্য শারিয়াহ বোর্ড এবং মসজিদের ইমামদের অবদান আছে। 
হালাল খাবার খেতে হলে দাম বেশি দিতে হয় কারন লেবার খরচ ওখানে বেশি। যেমন, হালাল মুরগির দাম হচ্ছে ২ ডলার কিন্তু হারাম মুরগির দাম ৯৯ সেন্ট। কিছু আরবরা আছেন যারা মনে করেন বিসমিল্লাহ বলে খেলেই হালাল হয়ে যায়, তবে আরব আলেমগণ তা মানেন না। একটু বেশি দাম দিতে হলেও আখিরাতের জন্য এটি অনেক মূল্যবান এবং আখিরাতের রাস্তা সহজ হয়ে যায়।  

কোশার এবং হালাল কি একই?
কোশার হল ইহুদিদের একটি সিস্টেম যেটার মাধ্যমে তারা হালাল খাবার খায়। কিন্তু কোশার আর হালাল একই না। ইহুদি ধর্মের রাব্বাই আছেন, যারা খাবার হালাল করেন একটি পদ্ধতিতে। শরীয়তের অনেক দিক যাচাই করে দেখে আমি মনে করি না, এভাবে মুসলিমদের খাওয়া উচিত। মুসলিমরা হালাল স্বীকৃত খাবার খেলেই ভালো। এমন কোনো জায়গায় যদি কেউ যায়, যেখানে হালাল পাওয়া যায় না, শুধু কোশার পাওয়া যায়; সেক্ষেত্রে জবেহকৃত খাবার বাদে অন্য খাবার খাওয়া যেতে পারে যেমন মাছ। পৃথিবীর সব জায়গাতেই মাছ পাওয়া যায়, আর মাছ সাধারণত সবাই খায় বা পছন্দ করে। তাছাড়া মাছের ক্ষেত্রে কোশারের কোনো প্রশ্নই আসে না।
এই ক্ষেত্রে আমেরিকার নিজ নিজ এলাকার ওলামা, ইমামগণ তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। আবার শরিয়াহ বোর্ড এবং জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন। নামাজিদের কাছে হালাল খাবার কেনাই বেশি ভালো। আর বেশি সমস্যা হলে মাছ খাওয়া ভালো। তবে কোশারের দাম আরও বেশি।

অনেকে মনে করেন, যেভাবেই জবেহ বা রান্না হোক না কেন, খাবার গ্রহণের সময় বিসমিল্লাহ বলে খেলেই সেটা হালাল হবে। এ বিষয়টি যদি একটু বলতেন।
হালালের ব্যাপারটি আসলে এমন নয়। হারাম খাদ্য বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া আল্লাহর সাথে মজা করার মতো। একটি ঘটনা বলি, আমি বরিশাল থেকে ঢাকা আসার পথে লঞ্চের ডেকে দেখলাম কয়েকজন তাস খেলছেন। তারা তাস বণ্টন বা দান দেয়ার সময় বলছেন, ‘বিসমিল্লাহ’। আপনি একটা মুরগি জবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ না বললে সেটা রান্না করে খাবার সময় বিসমিল্লাহ বললে তো হালাল হয়ে যাবে না! হারাম জিনিস এভাবে কখনও হালাল হয় না। হ্যাঁ, তবে বিসমিল্লাহ অবশ্যই বলবেন, সেটা হালাল খাবারের সময়। হালাল খাবার আল্লাহর নামে শুরু করেই খেতে হবে। কিন্তু তাই বলে কোনো অন্যায় কাজ যেমন চুরি, ডাকাতি, মারামারি ইত্যাদি করার সময় তো বিসমিল্লাহ বলা যাবে না। অনেকেই আবার ইসলামের নামে, জিহাদের নামে এমন অন্যায় করে থাকেন শরীয়তের নাম দিয়ে, এভাবে তো ইসলাম হবে না। সমস্ত কাজ হালালই হতে হবে, হারাম কাজে আল্লাহর নাম নেয়া অর্থহীন। ঠিক একইভাবে সুদ, ঘুষ নেবার ক্ষেত্রেও একই কথা। কেউ বলেন, আমি এভাবে (সুদ বা ঘুষের টাকা) নিলেও আমি তো মসজিদে টাকা দান করি। কিন্তু এ দানের কোনো দরকারও নেই। এইরকমভাবে হারাম উপার্জনের টাকা দিয়ে বিশালায়তন বা কারুকার্যখচিত মসজিদ করে লাভ নেই। এর চেয়ে পাখির বাসার মতো খড়ের মসজিদ করলেও আল্লাহর কাছে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। 

আমেরিকাতে তো চিকেন বিফ ছাড়াও চকোলেট, চিজ ইত্যাদি খাবার পাওয়া যায়। এসব খাবার কি হারাম হবার হতে পারে? 
জি, এমন খাবারেও হারামের সম্ভাবনা আছে। যেমন একদম ছোট বাচ্চাকে সিরিয়াল খাওয়ানো হয়। বড় বড় সুপার-শপ বা হোলসেল দোকান থেকে এসব আনার সময় আমরা চেক করে আনি। দেখতে হয়, এতে এনিম্যাল ফ্যাট হিসেবে শূকর আছে কিনা বা অন্য কোনো হারাম উপাদান আছে কিনা। যদি ফ্যাট হিসেবে গরুর চর্বিও ব্যবহৃত হয়, সেটা হালাল নাও হতে পারে। 
এছাড়া চকোলেট, কেক, পিৎজার চিজ আছে, যা দেখে কিনতে হয়। বিশেষ করে পিৎজার ক্ষেত্রে দেখতে হয়, এর চিজ কি দিয়ে বানানো। চিজ যারা বানান তাদের থেকেই আমরা এটা জেনেছি, যেটায় হালাল চিজ ব্যবহার করা হয়, তার দাম তুলনামূলক একটু বেশি হয়। মনে রাখতে হবে, হালাল চলতে গেলে বা বেছে চলা একটু কঠিন জীবনে, কিন্তু যাচ্ছেতাই ভাবে চলা অনেক সহজ। 

ম্যাকডোনাল্ড বা বার্গারকিং এর যে ফিশ আইটেম পাওয়া, সেগুলোর হালাল-হারামের ব্যাপারে একটু বলুন। 
ম্যাকডোনাল্ড বা বার্গারকিং এর সব আইটেম কিন্তু হারাম না। ফিশ ফিলেটের কথাই যদি ধরি। ফিশ ফিলেট ফ্রাই করার সময় তারা হয়তো একই পাত্র ব্যবহার করছেন অথবা একই প্লেট, চামচ ব্যবহার করছেন, যা অন্যান্য খাবারেও ব্যবহার করা হচ্ছে। যেই তেলে তারা ফর্ক তৈরি করছেন, একই তেলে বিফ, চিকেন, ফিশ ফিলেট ইত্যাদিও ফ্রাই করতে পারেন। কাজেই সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। সুতরাং সন্দেহযুক্ত জিনিসে যাবার দরকার তো নেই। একদিন আমি ডানকিনে গিয়ে একটি এগ স্যান্ডুইচ অর্ডার করলাম। কারণ, ডিম অন্তত হারাম হবার সম্ভাবনা কম। তখন এক ভদ্রলোক আমাকে বললেন, হুজুর আপনি আগে দেখে নিন এখানে যে চিজ দেয়া হচ্ছে, টা কতখানি হালাল, এর উপাদান কি। আপনি যেহেতু হালাল খাবেন, খাবার আগে অবশ্যই জিজ্ঞেস করে জেনে নিবেন এসব। তিনি ওই দোকানের ম্যানেজার ছিলেন, তাই এর বেশি আর বললেন না।
আমি যখন ডানকিন থেকে ব্রেড বা কেক কিনব আমাকে অবশ্যই দেখে নিতে হবে, এর উপাদান কি, এতে হারাম বা হারামে মিশ্রণের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা। 
আমি শ্রোতা-দর্শককে (পাঠক) বিনীতভাবে বলব, যদি জান্নাতে যাবার আশা রাখেন তাহলে অবশ্যই হালাল খাবার খাবেন, হালাল পথে চলবেন।

অনেক সময় অমুসলিমদের দোকানে হালাল বিফ, চিকেন ইত্যাদি খাবারের সাইনবোর্ড থাকে। উনারা দাবী করেন যে, উনারা হালাল খাবার বিক্রি করছেন। এসব অমুসলিম দোকান থেকে আমরা কি খাবার কিনতে পারি?
এটি সত্যি যে অমুসলিমগণ অনেক সময় হালাল খাবার বিক্রি করেন। তবে এক্ষেত্রে দেখতে হবে যে এসব বিফ বা চিকেন তারা কোন পোল্ট্রি থেকে এনেছেন। যেমন, এখানে বেশিরভাগ ছোটখাটো পার্টি সেন্টারের ব্যবসা চালান ইন্ডিয়ান হিন্দু ভাইয়েরা। তারা সাধারণত খাবার দেবার সময় বলে দেন, আমরা খাবার এনেছি অমুক রেস্টুরেন্ট থেকে, দেখো তুমি এটা হালাল কিনা বা খাবে কিনা। এক্ষেত্রে আমি যদি দেখি সেই রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে আমি জানি যে তারা হালাল খাবারই দেন, এক্ষেত্রে আমি সে খাবার খেতে পারি। 
একইভাবে আপনি যদি কোনো গ্রোসারি শপে গিয়ে দেখেন, সেখানের কর্মরত লোকেরা মুসলিম না। কিন্তু তারা যেখান থেকে পণ্য এনেছেন, সেটা হালাল আপনি নিশ্চিত। তাহলে তা আপনি গ্রহণ করতে পারেন। 

‘বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রি’ নামে যে ফার্ম আছে, এদের সম্পর্কে যদি বলতেন...
বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রির সাথে আমি ভালোভাবেই পরিচয় আছে। তবে অনেকেই এদেরকে ব্লেইমও করে। হয়তো তারা এদের কাছ থেকে কোনো আশানুরূপ সেবা পান নি। তবে এটা ঠিক যে, এই পোল্ট্রি যে চিকেন সাপ্লাই করে, তা হালাল। একবার এই পোল্ট্রির মালিক আমাকেসহ আরও কিছু ওলামায়ে কেরামকে দাওয়াত করেছিলেন। আমাদের মধ্যে মাওলানা ফায়েকুদ্দীন সাহেবও ছিলেন। তিনি আমাদেরকে দেখিয়েছিলেন, তিনি কিভাবে তার পণ্য প্রসেস করেন। এবং আমরা দেখলাম, তিনি হালাল উপায়েই সব কিছু করছেন। যিনি মুরগি জবেহ করেন, তিনি মুসলিম এবং নামাজি। বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রির শরিয়াহ বোর্ড অনুমদিত সার্টিফিকেটও রয়েছে।

বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রিতে অনেক অমুসলিমও কাজ করেন। সে ক্ষেত্রে এ খাবার হালাল হবে কিনা?
দেখুন, এখানে মালিক একজন মুসলিম, এবং যারা জবেহ করেন, তারাও মুসলিম। কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা ও অন্যান্য কাজে অমুসলিম থাকাটা দোষের কিছু নয়। একজন মুসলিম, নামাজি ব্যক্তি যদি কোনো অমুসলিমের দোকানেও থাকেন, আর তিনি যদি বিসমিল্লাহ বলেই জবেহ করেন, তাহলে অবশ্যই তা হালাল হবে। 
এভাবে, কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ করেন কখনো, তাই বলে তার সবকিছু হারাম হয়ে যায় না। আমি কোনো অমুসলিমের দোকান থেকে এক গ্যালন দুধ কিনলে তা তো হারাম হবে না। অথবা বড় কোনো সুপার-শপ যার মালিকানা অমুসলিমের, সে দোকানের সব জিনিস তো আর হারাম হচ্ছে না। 
বাংলাদেশে আগে তো হিন্দুরাই মিষ্টি বানাতেন, কোনো মুসলমান না। মরণ চাঁদের মিষ্টি কে না খেয়েছে! অর্থাৎ একটা জিনিসের উপাদান দেখতে হবে, এটা হালাল বা হারাম কিনা। যিনি কিনবেন এক্ষেত্রে তার দায়িত্ব বেশি, তিনি কি কিনছেন তা ভালোভাবে যাচাই করে নেয়া। 

এই অনুষ্ঠানটি আমেরিকার অনেক বাঙালি মুসলিম দেখছেন। সেই সাথে অনেক পোল্ট্রি ফার্মের মালিকেরাও হয়তো দেখে থাকবেন। তাদের ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কি?
আলহামদুলিল্লাহ, আমাকে উপদেশ দেবার জন্য বললেন। হাদিসে এসেছে, ‘আদ দীনুন নাসিহা’, নাসিহা বা উপদেশ দিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একজন মুসলিম হিসেবে সবার আগে হালাল উপার্জন করার পরামর্শ দেব। তারপর আপনি হালাল খাবেন। ফরজ এবং ওয়াজিব পালন করার চেষ্টা করবেন। যতদূর সম্ভব সুন্নত পালনের চেষ্টা করবেন। আপনি জান্নাতি হবেন। এবং আল্লাহ অবশ্যই আপনার সন্তানদের কল্যাণ দান করবেন। নূহ আ বা লূত আ এর পরিবারের কোনো কোনো সদস্য কাফের হওয়া সত্ত্বেও তাদের নবুয়্যাতের কোনো সমস্যা হয়নি। পরিবারের কেউ এমন বিপথে হয়তো যেতেও পারে।
আমেরিকায় আমরা অনেক ভালো আছি সবাই। এখানে সবাই আইন মেনে চলে। তাই মুসলিম যারা আছি, আমরা যেন হালাল ছাড়া হারাম পথে না যাই। এখানে হালাল উপার্জন, হালাল চলা, হালাল খাওয়া অনেক সহজ। আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশে থেকেই আমাদের জন্য অনেক সময় অনেক কিছু কঠিন হয়ে গিয়েছিল। 
এখানে আমরা কষ্ট করে হালাল উপার্জন করি। গ্রোসারি বা পোল্ট্রি ব্যবসায়ে যারা আছেন, তাদের বলব হালাল পথেই সবসময় থাকবেন। আমাদের সন্তানকে যেন হালাল-ভাবে বড় করে তুলতে পারি। হারাম পথে থেকে আমরা সবসময়ই দূরে থাকব। আমরা যদি ছোট কাজ করেও হালাল-ভাবে চলি দুনিয়াতে, আল্লাহ তাতেই খুশি হবেন। আর তাতেই আমাদের জান্নাত পাওয়া সহজ হবে, আখিরাত আমাদের জন্য সুখময় হবে। আমাদের সন্তানেরা যেন আমাদের দেখে শিখে। তারাও যেন হালালভাবেই তাদের জীবন অতিবাহিত করে। 
অতীতে আমরা যা ভুল করেছি, তার জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করে নিব। রাসূল সা বলেছেন, কঠিন গুনাহ করেও কেউ যদি পড়ে, আসতাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া তুউবু ইলাইহি- তার পিছনের সমস্ত গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দিবেন। 

শায়েখ, আমাদেরকে মূল্যবান সময় দানের জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাছি।
আপনাকে এবং বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোল্ট্রিকে ধন্যবাদ দিচ্ছি এমন আয়োজনের জন্যে। আপনাদের চ্যানেল ৭৮৬ কেও আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।


চ্যানেল ৭৮৬ এর নিউজ রুম এ যোগাযোগ করতে ই মেইল করুন এই ঠিকানায় [email protected] । আপনার পন্য বা সেবার প্রচারে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য কল করুন +1 (718) 355-9232 এই নাম্বারে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ